Loading market data...

কানাডার উপর দাবানলের ধোঁয়ার কারণে ট্রাম্পের বিলিয়ন ডলার শুল্ক হুমকি; ক্রিপ্টো বাজার শঙ্কিত

কানাডার উপর দাবানলের ধোঁয়ার কারণে ট্রাম্পের বিলিয়ন ডলার শুল্ক হুমকি; ক্রিপ্টো বাজার শঙ্কিত

ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার উপর বিলিয়ন ডলার নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিচ্ছেন, এবার যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়া দাবানলের ধোঁয়ার কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে। সাবেক প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, এই ধোঁয়া উত্তর যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশে সপ্তাহ ধরে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এর ফলে বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। এই হুমকি উত্তর আমেরিকার বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে — এবং ক্রিপ্টো বিনিয়োগকারীরাও সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।

শুল্ক হুমকি

ট্রাম্প বলেছেন, কানাডা যদি দাবানল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয় অথবা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক ক্ষতিপূরণ না দেয়, তাহলে তিনি শুল্ক আরোপ করবেন। তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা শতাংশ উল্লেখ করেননি, তবে ক্ষতির পরিমাণ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করেছেন। এই পদক্ষেপটি কানাডার বিরুদ্ধে দুগ্ধ ও ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে শুল্ক চাপানোর পূর্ববর্তী কৌশলের অনুরূপ।

এবারের ট্রিগার হলো পরিবেশগত। কানাডার দাবানলের ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক, মিশিগান ও মিনেসোটার মতো রাজ্যে পৌঁছেছে, যার ফলে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে, স্কুল বন্ধ হয়েছে এবং পর্যটন ও বহিরাঙ্গন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের একা এই ক্ষতি বহন করা উচিত নয়।

এই হুমকি একটি সংবেদনশীল সময়ে এলো। উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য ইতিমধ্যে পুনঃআলোচিত USMCA চুক্তি এবং কাঠ ও অটো যন্ত্রাংশ নিয়ে বিরোধের কারণে চাপে রয়েছে। নতুন শুল্ক হুমকি সীমান্ত বাণিজ্যকে আরও ধীর করতে পারে। ঐতিহ্যবাহী বাজার সতর্কতার সাথে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে — কানাডিয়ান ডলার দুর্বল হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইকুইটি ফিউচার কিছুটা কমেছে।

ক্রিপ্টো বাজারও এর প্রভাব এড়াতে পারেনি। ব্যবসায়ীরা বড় বাণিজ্য বিঘ্নের ঝুঁকি মূল্যায়ন করে বিটকয়েন ও অন্যান্য প্রধান টোকেনের দামে অস্থিরতা বেড়েছে। কেউ কেউ স্টেবলকয়েনে চলে গেছেন, যা ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে সাধারণত নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দেখা হয়। ক্রিপ্টো এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক বাণিজ্য সংবাদের মধ্যে সম্পর্ক আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে, এবং এই সপ্তাহের শিরোনাম সেই প্রবণতাকে আরও জোরদার করেছে।

ক্রিপ্টো বিনিয়োগকারীদের কী দেখা উচিত

ক্রিপ্টো ধারকদের জন্য তাৎক্ষণিক ঝুঁকি হলো একটি 'রিস্ক-অফ' পরিবর্তন, যা সব সম্পদের দাম কমিয়ে দিতে পারে। তবে সম্ভাব্য সুবিধাও রয়েছে: যদি শুল্ক বাড়তে বাড়তে পূর্ণ বাণিজ্য যুদ্ধে পরিণত হয়, তাহলে কিছু বিনিয়োগকারী ফিয়াট মুদ্রার অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে হেজ হিসেবে বিটকয়েনের দিকে ঝুঁকতে পারেন। এই ধারণা আগেও দেখা গেছে, তবে এটি নিশ্চিত নয়।

বড় প্রশ্ন হলো কানাডা কি প্রতিশোধ নেবে? অটোয়া ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র যদি শুল্ক আরোপ করে, তাহলে তারা নিজেদের শুল্ক দিয়ে জবাব দিতে প্রস্তুত। এটি অনিশ্চয়তা আরও বাড়াবে এবং স্বল্পমেয়াদে ক্রিপ্টো বাজারকে অস্থির রাখবে।

এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হয়নি। তবে দাবানলের মৌসুম এখনও চরমে থাকায় উভয় পক্ষের ওপর চাপ বাড়তেই থাকবে। পরবর্তী কংক্রিট পদক্ষেপ হতে পারে ট্রাম্পের দলের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক শুল্ক প্রস্তাব — অথবা কানাডার কূটনৈতিক উদ্যোগ তা এড়াতে।