ভারত সাম্প্রতিক মার্কিন বাণিজ্য আলোচনায় একটি কম শুল্ক স্তর অর্জন করেছে, যা চীনের বিরুদ্ধে তার রপ্তানি প্রতিযোগিতামূলকতা শক্তিশালী করেছে। কয়েক মাসের আলোচনার পর চূড়ান্ত হওয়া এই চুক্তি ভারতীয় রপ্তানিকারকদের বিভিন্ন পণ্যের জন্য মার্কিন বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার দিয়েছে। তবে এই সুবিধা স্থায়ী নয়—ভবিষ্যতে মার্কিন-চীন সম্পর্কের পরিবর্তন এবং খাত-নির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা ভারতের এই সুবিধা ক্ষয় করতে পারে।
নতুন শুল্ক স্তর ভারতের জন্য কী অর্থ বহন করে
কম শুল্ক স্তরটি টেক্সটাইল, ইলেকট্রনিক্স এবং যন্ত্রপাতি সহ বিস্তৃত পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ভারতীয় নির্মাতারা এখন মার্কিন বাজারে পণ্য বিক্রিতে তাদের চীনা প্রতিযোগীদের তুলনায় কম খরচের মুখোমুখি হচ্ছেন, যারা বাণিজ্য যুদ্ধের সময় আরোপিত উচ্চ শুল্কের আওতায় রয়েছেন। এই মূল্যের ব্যবধান ভারতীয় কোম্পানিগুলিকে সরাসরি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেয়, বিশেষ করে শ্রম-নিবিড় খাতে যেখানে মুনাফার মার্জিন খুবই পাতলা।
বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তি ভারতকে মার্কিন আমদানির একটি বড় অংশ দখল করতে সাহায্য করতে পারে, বিশেষ করে যখন আমেরিকান ক্রেতারা চীন থেকে সরবরাহ শৃঙ্খল বৈচিত্র্যকরণের দিকে ঝুঁকছেন। সময়টি অনুকূল: বিশ্বব্যাপী কোম্পানিগুলি ইতিমধ্যেই 'চায়না প্লাস ওয়ান' কৌশলের অধীনে ভারতে উৎপাদন স্থানান্তর করছে। নতুন শুল্ক স্তর ভারতীয় পণ্যকে আরও সাশ্রয়ী করে এই প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করছে।
মার্কিন-চীন বাণিজ্য গতিশীলতা থেকে ঝুঁকি
তবে এই সুবিধা ভঙ্গুর। যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন একটি বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছায় যা চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে দেয়, তাহলে ভারতের মূল্যের সুবিধা হ্রাস পেতে বা অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। বাইডেন প্রশাসন চীনা শুল্ক পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছে এবং যেকোনো প্রত্যাহার সরাসরি ভারতের অবস্থানকে দুর্বল করবে।
খাত-নির্দিষ্ট শুল্কও হুমকি সৃষ্টি করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে দেশগুলিকে অন্যায্য বাণিজ্যকারী বলে মনে করে তাদের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক শুল্ক আরোপের ইচ্ছা দেখিয়েছে—ভারত নিজেও অতীতে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম শুল্কের মুখোমুখি হয়েছিল। যদি ভারতীয় রপ্তানি খুব দ্রুত বেড়ে যায়, তাহলে মার্কিন শিল্পগুলি নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর নতুন শুল্কের জন্য লবিং করতে পারে, যা কম শুল্ক স্তরের সুবিধা নষ্ট করবে।
আরেকটি ঝুঁকি: এই চুক্তি ভারতের বাজার প্রবেশাধিকার এবং বৌদ্ধিক সম্পত্তি সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির সাথে আবদ্ধ। যদি ভারত সেই শর্তগুলি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক স্তর প্রত্যাহার করতে পারে। ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন তারা সম্মতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী, তবে পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়াটি অস্বচ্ছ রয়ে গেছে।
ভারতকে তার সুবিধা ধরে রাখতে কী করতে হবে
সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের গুণমান, লজিস্টিকস এবং সম্মতিতে বিনিয়োগ করতে হবে। কম শুল্ক একটি দরজা খুলে দিয়েছে, কিন্তু এটি বিক্রয়ের নিশ্চয়তা দেয় না। ক্রেতারা এখনও মূল্য, নির্ভরযোগ্যতা এবং গতির তুলনা করবে। ভারতের পরিকাঠামো এবং নিয়ন্ত্রক পরিবেশকে ভলিউম বাড়ার সাথে সাথে পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।
নয়াদিল্লি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি বৃহত্তর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির জন্যও চাপ দিচ্ছে, তবে এটি এখনও দূরের সম্ভাবনা। আপাতত, কম শুল্ক স্তরটি একটি কৌশলগত জয়—যা বজায় রাখতে ধ্রুব মনোযোগ প্রয়োজন। আগামী কয়েক মাস দেখাবে ভারতীয় কোম্পানিগুলি এই মুহূর্তটি কাজে লাগাতে পারে কিনা এবং ওয়াশিংটনের সদিচ্ছা টিকে থাকে কিনা।




