বৃহস্পতিবার বিটকয়েনের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন সামরিক হামলার নির্দেশ দেন, যা বিশ্ববাজারে শোকের ঢেউ তুলেছে। বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সিটি তীব্রভাবে দর হারিয়েছে, কারণ ব্যবসায়ীরা মার্কিন ডলার ও সোনার মতো নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটে গেছেন। এই পদক্ষেপ দেখায় যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু কত দ্রুত ক্রিপ্টো বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে, এমনকি যখন এই সম্পদ শ্রেণীটি পরিণত হচ্ছে।
হামলা
১১ জুন মার্কিন বাহিনী ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে পরিচালিত হয়। এই আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়, যা মাসের পর মাস ধরে হুমকি ও নিষেধাজ্ঞায় ইতিমধ্যেই ভঙ্গুর ছিল। ঐতিহ্যবাহী বাজারেও বিক্রির চাপ দেখা গেছে, এশিয়া ও ইউরোপের স্টক সূচক কমেছে এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম বেড়েছে।
বিটকয়েনের প্রতিক্রিয়া
বিটকয়েন শেয়ারবাজারের সঙ্গে সঙ্গে পড়ে যায়, যা $৭০,০০০-এর কাছাকাছি কয়েক সপ্তাহের পরিসর ভেঙে দেয়। পতনটি দ্রুত ছিল, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দাম কয়েক হাজার ডলার কমে যায়। আল্টকয়েনগুলিও একই পথ অনুসরণ করে, অনেকের দামে দুই অঙ্কের শতাংশ পতন দেখা গেছে। এই বিক্রি একটি বিস্তৃত ঝুঁকি-বিমুখ মেজাজ প্রতিফলিত করেছে — আপাতত, বিটকয়েন ডিজিটাল সোনার মতো নয়, বরং উচ্চ-বিটা প্রযুক্তি স্টকের মতো আচরণ করেছে।
ভূরাজনৈতিক শক ক্রিপ্টোকে অস্থিতিশীল করার এটাই প্রথম ঘটনা নয়। তবে এই পদক্ষেপের গতি অনেক ব্যবসায়ীকে বিস্মিত করেছে, বিশেষ করে যারা সাম্প্রতিক দিনগুলিতে লিভারেজড লং পজিশনে জড়িয়েছিলেন।
এরপর কী হবে
তাত্ক্ষণিক প্রশ্ন হল পরিস্থিতি শান্ত হবে নাকি আরও খারাপের দিকে যাবে। ইরান প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে, এবং ট্রাম্প প্রয়োজন হলে আরও হামলার সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ক্রিপ্টো বাজারের জন্য এর অর্থ হল অস্থিরতা বজায় থাকার সম্ভাবনা। কূটনীতি গতি পেলে বিটকয়েনের দাম বাড়তে পারে, অথবা ব্যাপক সংঘাত শুরু হলে আরও পড়তে পারে।
আপাতত, ব্যবসায়ীরা সংবাদ চক্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। যুদ্ধবিরতি বা যুদ্ধ বিস্তারের যেকোনো ইঙ্গিত পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য টোন নির্ধারণ করবে। এই পতন একটি স্বল্পমেয়াদী ভীতি হতে পারে বা গভীর সংশোধনের শুরু। আগামী ঘণ্টাগুলোই তা বলবে।




