স্ট্রেইট অফ হরমুজের সংকীর্ণ জলপথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় ইসরায়েল পুরো অঞ্চল জুড়ে তার সামরিক অভিযান জোরদার করেছে। এই বৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা বাড়ানোর ঝুঁকি সৃষ্টি করে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ পথের ওপর নির্ভরশীল বৈশ্বিক তেলের বাজারকে হুমকির মুখে ফেলে।
স্ট্রেইট অফ হরমুজ কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল স্ট্রেইট অফ হরমুজের মধ্য দিয়ে যায়, যা ইরান এবং ওমানের মধ্যে ৩৩ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি পথ। সেখানে যেকোনো ব্যাঘাত অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী করতে পারে। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনা জলপথটিকে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি গণনার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছে।
ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ
ইসরায়েল তার সর্বশেষ অভিযানের পরিধি সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি, তবে কর্মকর্তারা এগুলোকে বর্ধিত হুমকি পরিবেশের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দেশটি এমন এলাকায় বিমান হামলা এবং স্থল অভিযান চালাচ্ছে যেখানে ইরান-সমর্থিত বাহিনী কাজ করে। সামরিক বাহিনী তার উত্তর সীমান্ত বরাবর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও শক্তিশালী করেছে।
বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব
বিস্তৃত সংঘর্ষের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করে ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যেই তেলের দাম কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে। যদি এই উত্তেজনা অবরোধ বা ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর হামলার দিকে নিয়ে যায়, তাহলে প্রভাব তাৎক্ষণিক হবে। প্রধান ব্যাংকগুলোর বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে স্ট্রেইট অফ হরমুজের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধ হয়ে গেলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলার প্রতি ব্যারেলের ওপরে উঠতে পারে। টোকিও থেকে লন্ডন পর্যন্ত সরকারগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জরুরি পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে।
পরবর্তী কী হতে পারে
ওয়াশিংটন বা তেহরান কেউই যুদ্ধের ইচ্ছা প্রকাশ করেনি, তবে এই বৃদ্ধির নিজস্ব গতি আছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ গুরুত্বপূর্ণ হবে: সমুদ্রে একটি ভুল গণনা উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থাকে খোলা সংঘর্ষে পরিণত করতে পারে। ইসরায়েল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে যদি সে সরাসরি হুমকি অনুভব করে তবে সে একতরফাভাবে কাজ করবে।




