কাজাখস্তান ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজের হেফাজতে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, যা তেহরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ কমাতে পারে। বিশদ শর্ত ছাড়াই প্রকাশ্যে আনা এই প্রস্তাবের লক্ষ্য সংবেদনশীল উপাদানটিকে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধানে রাখা।
আস্থা বাড়ানোর পদক্ষেপ
প্রস্তাবটি ইরান এবং তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সতর্ক দেশগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য আস্থা বাড়ানোর ব্যবস্থা হিসেবে এসেছে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বেসামরিক জ্বালানি এবং উচ্চতর সমৃদ্ধকরণ স্তরে অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহার করা যায়। কাজাখস্তানের মতো তৃতীয় দেশে উপাদানটি সংরক্ষণ করলে তা সামরিক উদ্দেশ্যে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না কিনা তা যাচাই করতে সহায়তা করতে পারে। এ পর্যন্ত ইরান প্রস্তাবটির প্রতি প্রকাশ্যে সাড়া দেয়নি।
কেন কাজাখস্তান এগিয়ে এল
কাজাখস্তানের প্রস্তাব এটিকে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধে নিরপেক্ষ পক্ষ হিসেবে স্থান দিয়েছে। দেশটির পারমাণবিক অচলাবস্থায় সরাসরি কোনো স্বার্থ নেই, তবে এটি মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করতে চেয়েছে। ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আয়োজন করা তেহরানের ওপর চাপ কমাতে পারে, পাশাপাশি অন্যান্য দেশকে ইরানের কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ প্রকৃতি সম্পর্কে আরও আস্থা দিতে পারে। এই ধরনের স্থানান্তরের লজিস্টিকস ও শর্তাবলি এখনও স্পষ্ট নয়।
যেকোনো চুক্তিতে সম্ভবত স্থানান্তরযোগ্য ইউরেনিয়ামের পরিমাণ, সংরক্ষণের স্থান এবং উপাদানটি সুরক্ষিত রাখার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সম্মতি প্রয়োজন হবে। প্রস্তাবটি একটি কংক্রিট প্রস্তাব, তবে এর সাফল্য ইরানের নিজস্ব মজুতের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।
এরপর কী হবে
আপাতত বলটি ইরানের কোর্টে। প্রতিক্রিয়ার জন্য কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। প্রস্তাবটি আলোচনার নতুন চ্যানেল খুলে দিতে পারে বা কোনো চুক্তি না হলে কেবল একটি ইঙ্গিত হয়ে থাকতে পারে। পারমাণবিক আলোচনায় জড়িত অন্যান্য পক্ষগুলি অগ্রগতি বা অচলাবস্থার লক্ষণগুলির জন্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।




