Loading market data...

যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী অবরোধ পুনরায় শুরু করল, বিশ্ব জ্বালানি বাজার কাঁপিয়ে দিচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী অবরোধ পুনরায় শুরু করল, বিশ্ব জ্বালানি বাজার কাঁপিয়ে দিচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ পুনরায় চালু করেছে, যা ইতিমধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথ দিয়ে যান চলাচল কমিয়ে দিয়েছে এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তরঙ্গ সৃষ্টি করছে। এই অবরোধ জাহাজ চলাচল সীমিত করায় জাহাজ চলাচল খরচ বাড়বে এবং তেলের দামে অস্থিরতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কেন এই প্রণালী গুরুত্বপূর্ণ

হরমুজ প্রণালী ওমান ও ইরানের মধ্যে একটি সংকীর্ণ জলপথ। প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়ে যায়। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অপরিশোধিত তেল বহনকারী ট্যাঙ্কারগুলো এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। এই প্রণালীতে অবরোধ শুধু একটি দেশকে নয়, পুরো বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলকে প্রভাবিত করে।

এখন কম জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে যাচ্ছে। ফলে যেসব জাহাজ চলছে তাদের দীর্ঘ পথ নিতে হচ্ছে এবং জাহাজ মালিকদের বীমা প্রিমিয়াম বাড়ছে। এর ফলে জাহাজ চলাচল খরচ বাড়ছে, এবং সেই খরচ ক্রেতাদের ওপর বর্তাচ্ছে।

জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ

তেলের দাম ইতিমধ্যেই অস্থিতিশীল। এই অবরোধ আরেকটি অনিশ্চয়তা যোগ করেছে। ব্যবসায়ীরা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় নজর রাখছেন। এমনকি দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের হুমকিও দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ এমন সময়ে এসেছে যখন অনেক দেশ এখনও মূল্যস্ফীতি এবং উচ্চ জ্বালানি খরচের সঙ্গে লড়াই করছে।

শুধু তেল নয়, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং অন্যান্য পণ্যদ্রব্যও এই প্রণালী দিয়ে যায়। সেখানে কোনো ব্যাঘাত ঘটলে তা একাধিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। সম্পূর্ণ প্রভাব নির্ভর করবে অবরোধ কতদিন স্থায়ী হয় এবং অন্যান্য দেশ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় তার ওপর।

ইরানের কৌশলগত দ্বিধা

ইরানের জন্য এই অবরোধ একটি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে প্রণালীর পাশে তার অবস্থানকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। এখন নিজেই চাপের মুখে পড়েছে। এই অবরোধ ইরানকে বিকল্প বাণিজ্য পথ খুঁজতে বাধ্য করছে—প্রতিবেশী দেশগুলোর মাধ্যমে স্থলপথে অথবা দীর্ঘ সমুদ্রপথে। এগুলো ব্যয়বহুল এবং ধীরগতির।

ইরানের অর্থনীতি ইতিমধ্যেই নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে। প্রণালীতে সহজ প্রবেশাধিকার হারানো তার বিচ্ছিন্নতা আরও গভীর করতে পারে। তবে শাসকগোষ্ঠীর কাছে বিকল্প রয়েছে: তারা পারস্য উপসাগরের বন্দর দিয়ে পণ্য পুনরায় রুট করতে পারে অথবা স্থলপথের করিডোরের জন্য অন্যান্য দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে পারে। এগুলোর কোনোটিই দ্রুত সমাধান নয়।

এই অবরোধ সংঘর্ষের ঝুঁকিও বাড়ায়। অতীতে ইরানের টহল নৌকা এবং মার্কিন নৌবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত দেখা গেছে। দীর্ঘমেয়াদী অচলাবস্থা দুর্ঘটনা বা উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

এরপর কী হবে

যুক্তরাষ্ট্র বলছে না অবরোধ কতদিন চলবে। জাহাজ চলাচলকারী কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যেই তাদের রুট পরিবর্তন করছে এবং বীমাকারীরা প্রিমিয়াম বাড়াচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে দেখা যাবে এই অবরোধ তার ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করে নাকি বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়ায়। আপাতত হরমুজ প্রণালী অনেক বেশি শান্ত—এবং অনেক বেশি ব্যয়বহুল।