ইরান ইসফাহানে তিন বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, কারণ দেশটি ব্যাপক অস্থিরতার মুখোমুখি হচ্ছে। এই মৃত্যুদণ্ডগুলি মাস ধরে দেশকে নাড়িয়ে দেওয়া বিক্ষোভের সাথে যুক্ত রাষ্ট্রীয় আদেশে হত্যার সর্বশেষ ঘটনা।
ইসফাহানে মৃত্যুদণ্ড
তিন ব্যক্তিকে ইসফাহানে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, একটি শহর যা অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর থেকে বারবার বিক্ষোভ দেখেছে। তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, এবং তারা কী নির্দিষ্ট অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও বিস্তারিত না দিয়ে মৃত্যুদণ্ডের খবর দিয়েছে।
এই মৃত্যুদণ্ডগুলি ভিন্নমত দমনের একটি বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে এসেছে। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান কয়েক ডজন বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, যার মধ্যে কয়েকজন ইতিমধ্যেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহারকে নিন্দা করেছে, একে বিরোধিতা দমনের একটি হাতিয়ার বলে অভিহিত করেছে।
বৃহত্তর দমন
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া অস্থিরতা ইরান সরকারের জন্য বছরের পর বছর ধরে সবচেয়ে গুরুতর চ্যালেঞ্জগুলির একটি তৈরি করেছে। হেফাজতে এক তরুণীর মৃত্যুর প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত বিস্তৃত রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের দাবিতে একটি জাতীয় আন্দোলনে পরিণত হয়।
জবাবে, কর্তৃপক্ষ হাজার হাজার লোককে গ্রেপ্তার করেছে এবং মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তি দিয়েছে। ইসফাহানের মৃত্যুদণ্ডগুলি সেই প্যাটার্নের অংশ। সমালোচকরা বলছেন যে বিচারগুলিতে যথাযথ প্রক্রিয়ার অভাব রয়েছে এবং প্রায়শই বন্ধ দরজার পিছনে পরিচালিত হয়।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ইরানের মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহারের নিন্দা করেছে। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন সরকার মৃত্যুদণ্ড বন্ধ করার এবং ইরানকে বিক্ষোভকারীদের অধিকার সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে তেহরান এই ধরনের সমালোচনাকে তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
অধিকার গোষ্ঠীগুলি অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর থেকে মৃত্যুদণ্ডের তীব্র বৃদ্ধি নথিভুক্ত করেছে। তারা যুক্তি দেয় যে ভীতি প্রদর্শন এবং ভিন্নমত নীরব করার জন্য মৃত্যুদণ্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। ইসফাহানের মৃত্যুদণ্ডগুলি আরও নিন্দা আকর্ষণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরবর্তী কী হবে
আরও মৃত্যুদণ্ডের পরিকল্পনা আছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। ইরানের বিচার বিভাগ ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা বিক্ষোভে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যাবে। কর্মীরা আশঙ্কা করছেন যে বিচার চলার সাথে সাথে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে মৃতের সংখ্যা বাড়বে।
ইসফাহানের মৃত্যুদণ্ডগুলি বিক্ষোভে অংশ নেওয়াদের জন্য ঝুঁকির একটি স্পষ্ট স্মারক। অস্থিরতা কমার কোনো লক্ষণ না থাকায়, দমন ও প্রতিরোধের চক্র ভাঙার কোনো ইঙ্গিত নেই।




