জাতিসংঘের এক নতুন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান জড়িত চলমান সংঘাত বিশ্বব্যাপী খাদ্যমূল্য তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে গেছে। এই উত্থান ঘটেছে যখন যুদ্ধ তেল ও খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত করছে, যা ইতিমধ্যেই ভঙ্গুর সরবরাহ শৃঙ্খলে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
অর্থনৈতিক প্রভাবের ঢেউ
জাতিসংঘের প্রতিবেদন সতর্ক করে যে সংঘাত বিশ্ব অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে তুলছে। উচ্চ খাদ্যমূল্য উন্নত ও উন্নয়নশীল উভয় দেশেই মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছে, যার ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য মুদ্রানীতি পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট সংখ্যা দেওয়া না হলেও উল্লেখ করা হয়েছে যে এই মূল্যবৃদ্ধি ২০২২ সালের শুরুর পর থেকে সবচেয়ে তীব্র।
সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ
সংঘাতে ইরানের ভূমিকা সরাসরি দুটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ লাইনকে আঘাত করেছে: শক্তি ও কৃষি। এই অঞ্চল থেকে তেল চালান ব্যাহত হয়েছে, যার ফলে জ্বালানি খরচ বেড়ে গেছে, যা পরবর্তীতে খাদ্য উৎপাদন ও পরিবহনে স্থানান্তরিত হচ্ছে। একই সময়ে, এই এলাকা থেকে শস্য ও অন্যান্য প্রধান পণ্যের রপ্তানি ধীর হয়ে গেছে, যা বিশ্বব্যাপী মজুদ কমিয়ে দিয়েছে।
জাতিসংঘ নির্দিষ্ট কোন দেশের নাম উল্লেখ করেনি, তবে প্যাটার্নটি পরিচিত। যখন খাদ্য ও শক্তির দাম একসঙ্গে বেড়ে যায়, তখন সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার আমদানি-নির্ভর দেশগুলি প্রথমে এর প্রভাব অনুভব করছে।
মুদ্রানীতি জটিলতা
কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের জন্য, খাদ্যমূল্যের এই লাফ একটি দ্বিধা তৈরি করে। অনেক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি ইতিমধ্যেই আটকে আছে, এবং একটি নতুন সরবরাহ ধাক্কা তাদের সুদের হার বেশি সময় ধরে রাখতে বাধ্য করতে পারে। এর ফলে ভোক্তারা উচ্চ মুদি বিলের সাথে লড়াই করলেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। জাতিসংঘের প্রতিবেদন পরিস্থিতিটিকে নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি 'জটিল চ্যালেঞ্জ' হিসেবে বর্ণনা করেছে, যদিও এটি কোনও পরামর্শ দেয় না।
সংঘাত নিজেই থামার কোনও লক্ষণ দেখাচ্ছে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ যতদিন চলবে, ততদিন খাদ্য ও শক্তি বাজার অস্থির থাকবে। সরকারগুলি ভর্তুকি, মূল্য নিয়ন্ত্রণ বা কৌশলগত মজুদের মাধ্যমে আঘাত কমানোতে সক্ষম কিনা, তা একটি উন্মুক্ত প্রশ্ন।




