মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে ইরানের একটি স্থানে হামলা চালিয়েছে এবং একই এলাকায় একাধিক ড্রোন拦截 করেছে, যা এই অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের দ্বারা নিশ্চিত হওয়া এই অভিযানটি ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এসেছে, যা এখন মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নিরাপত্তা অস্থিতিশীল করতে এবং বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহন ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হামলা এবং拦截
মার্কিন বাহিনী পেন্টাগনের বর্ণনা অনুযায়ী ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস দ্বারা ব্যবহৃত একটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই হামলার পরে প্রণালীর আন্তর্জাতিক শিপিং লেনের কাছে পরিচালিত বেশ কয়েকটি ইরানি ড্রোন拦截 করা হয়েছে, যা বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথ। ড্রোনের সংখ্যা বা স্থানটিতে ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এই পদক্ষেপগুলি বর্তমান উত্তেজনার সূচনার পর থেকে এলাকায় ইরানি বাহিনীর সাথে প্রথম সরাসরি মার্কিন সামরিক সংঘর্ষকে চিহ্নিত করে। পূর্ববর্তী সংঘর্ষগুলি পাল্টা-পাল্টি সাইবার আক্রমণ এবং প্রক্সি অপারেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
তেল বাণিজ্য ঝুঁকিতে
হরমুজ প্রণালী ওমান এবং ইরানের মধ্যে একটি সংকীর্ণ জলপথ যার মধ্য দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল যায়। সেখানে যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানির ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতিগুলিকে চাপের মুখে ফেলতে পারে।
তেল বাজার ইতিমধ্যেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, প্রাথমিক ট্রেডিংয়ে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ৩% এর বেশি বেড়েছে। বিশ্লেষকরা তেহরানের কাছ থেকে আরও পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন, যার মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ বা প্রতিবেশী দেশগুলিতে তেল অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য প্রতিশোধ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ
এই উত্তেজনা উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলিকে শঙ্কিত করেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন-ইরান সংঘর্ষের ক্রসফায়ারে পড়ার ভয় পায়। সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয়ই সংযমের আহ্বান জানিয়েছে, যখন ইরাক এবং কাতার মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিট এলাকায় টহল বাড়িয়েছে এবং মিত্র ঘাঁটিতে অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
ইরান এখনও এই হামলার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, কিন্তু রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের জরুরি বৈঠকের খবর দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই “অপ্ররোচিত আগ্রাসন” নিন্দা করেছে এবং ফলাফলের বিষয়ে সতর্ক করেছে।
এই ঘটনাটি ইরাক ও ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলি মার্কিন অবস্থানে হামলা চালানোর এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ঘটেছে, যা একটি সমন্বিত প্রচারণার ইঙ্গিত দেয়। ওয়াশিংটন বলেছে যে নিজের বাহিনী এবং স্বার্থ রক্ষার অধিকার তার রয়েছে।
পরবর্তী কী হতে পারে
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের অনুরোধে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি জরুরি অধিবেশন আহ্বান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা প্রণালী দিয়ে যাওয়া সমস্ত জাহাজকে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। পেন্টাগন বলেছে যে ইরানি বাহিনী যদি শিপিংকে হুমকি দিতে থাকে তবে আরও হামলা চালানো হতে পারে।




