Loading market data...

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি: হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার পাবলিক প্রতিশ্রুতি দিন ইরান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি: হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার পাবলিক প্রতিশ্রুতি দিন ইরান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে সরাসরি দাবি জানিয়েছে যে তারা হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক শিপিংয়ের জন্য খোলা রাখার পাবলিক প্রতিশ্রুতি দেবে। এই সতর্কবার্তার সাথে একটি হুঁশিয়ারিও এসেছে: প্রণালীতে ইরানের কোনো জাহাজ হামলা হলে তার জবাবে পূর্বের যেকোনো হামলার চেয়ে ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী সামরিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে।

ওয়াশিংটনের দাবি

মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা তেহরানের কাছ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক ও পাবলিক প্রতিশ্রুতি চান যে প্রণালীটি খোলা থাকবে। এই দাবি নতুন কিছু নয়—ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়ে আসছে—তবে এবারের ভাষ্য আরও কঠোর। মার্কিন প্রশাসন ইরানকে একটি স্পষ্ট লাইন টেনে দিচ্ছে: হয় প্রণালী খোলা রাখার প্রতিশ্রুতি দিন, নয়তো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিন।

হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে একটি সংকীর্ণ জলপথ। প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথে পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ হলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে এবং বিশ্ব অর্থনীতি মারাত্মক ধাক্কা খাবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বারবার সতর্ক করেছে যে তারা এই প্রণালী অবরোধ মেনে নেবে না।

সামরিক হুঁশিয়ারি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট রাখা হয়েছে, কিন্তু তা অত্যন্ত গুরুতর। এতে বলা হয়েছে, ইরান যদি প্রণালীতে মাইন পুঁতে, মিসাইল হামলা চালায় বা ছোট নৌকা দিয়ে হয়রানি করে, তাহলে তার জবাব হবে আগের যেকোনো হামলার চেয়ে ২০ গুণ বেশি ধ্বংসাত্মক। অতীতে মার্কিন বাহিনী ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া ও নৌ-সম্পদের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে। নতুন হুঁশিয়ারি ইঙ্গিত দেয় যে এবারের জবাব আরও ব্যাপক ও ভয়াবহ হবে।

ইরান এখনও এই দাবির জবাব দেয়নি। দেশটির নেতৃত্ব আগে হুমকি দিয়েছিল যে নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক চাপ বাড়লে তারা প্রণালী বন্ধ করে দেবে। কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর করলে তা হবে এক বড় ধরনের সংঘাত, যা মার্কিন নৌবাহিনী ও তার মিত্রদের সাথে সরাসরি সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করবে।

মার্কিন দাবির পেছনের সময়টি স্পষ্ট নয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার পটভূমিতে এটি এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, আরও যুদ্ধজাহাজ ও বিমান মোতায়েন করছে। ইরানের কাছে বার্তা স্পষ্ট: প্রণালী খোলা রাখুন, নইলে এর পরিণতি হবে অভূতপূর্ব।