প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ২০ বছরের সীমা মেনে নিতে প্রস্তুত, যা তেহরানের সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের স্থায়ী সমাপ্তির উপর তার আগের জোর দেওয়া অবস্থান থেকে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী এই উন্মুক্ততা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ইরানের পারমাণবিক কাজ সীমিত করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেছে ট্রাম্প।
কঠোর অবস্থান থেকে বিরতি
২০১৮ সালে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পর থেকে ট্রাম্প ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করার লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞার একটি 'সর্বোচ্চ চাপ' নীতি অনুসরণ করেছেন। তার প্রশাসন বারবার ইরানের কাছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। ২০ বছরের প্রস্তাবটি মূল যৌথ সর্বব্যাপী কর্মপরিকল্পনার (জেসিপিওএ) মূল বিধিনিষেধের সময়কালের অনুরূপ, যা ১৫ বছরের জন্য ৩.৬৭% বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধকরণ সীমিত করেছিল। পার্থক্য এখন এই যে ট্রাম্প নিজেই সংখ্যাটি উল্লেখ করছেন।
প্রেসিডেন্টের এই ইঙ্গিত এসেছে যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি জেসিপিওএর সীমার বাইরে অনেক বিস্তৃত হয়েছে। সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৬০% এ পৌঁছেছে, যা অস্ত্র-গ্রেড থেকে একটি ছোট প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ দূরে। আন্তর্জাতিক পরিদর্শকরা জানিয়েছেন যে ইরানের কাছে এখন যদি তারা অস্ত্র তৈরি করতে চায় তবে বেশ কয়েকটি বোমার জন্য যথেষ্ট উপাদান রয়েছে।
২০ বছরের সীমা কী অর্থ বহন করবে
২০ বছরের সীমা ইরানের সমৃদ্ধকরণ ক্ষমতা একটি সম্মত স্তরে স্থির করবে, সম্ভবত তার বর্তমান উৎপাদনের চেয়ে কম, এবং এর বিনিময়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি দেবে। আলোচকদের এখনও যাচাইকরণ পদ্ধতি, সঠিক সমৃদ্ধকরণ সীমা এবং দুই দশক পর কী হবে তা নির্ধারণ করতে হবে। সমালোচকরা যুক্তি দেন যে সময়সীমা কেবল সমস্যা স্থগিত করে। সমর্থকরা পাল্টা যুক্তি দেন যে এটি আরও স্থায়ী সমাধানের জন্য সময় কিনে দেয় এবং পরিদর্শনের জন্য একটি স্পষ্ট কাঠামো প্রদান করে।
ইরানি কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট ২০ বছরের প্রস্তাবের প্রতি প্রকাশ্যে সাড়া দেননি। অতীতে, তেহরান তার পারমাণবিক কাজের কোনো পশ্চাদপসরণের আগে নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ শেষ করার ওপর জোর দিয়েছে। ইরানের অর্থনীতি চরম চাপের মধ্যে রয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি ৪০% এর উপরে এবং তেল রপ্তানি তীব্রভাবে কমেছে।
প্রতিক্রিয়া এবং পরবর্তী পদক্ষেপ
ওয়াশিংটন এবং তেহরান উভয়ের কট্টরপন্থীদেরই কোনো আপসের বিরোধিতা করার কারণ রয়েছে। কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ২০ বছরের সীমাকে একটি ছাড় বলে অভিহিত করেছেন যা ইরানের আগ্রাসনকে পুরস্কৃত করে। কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি, তবে এই ইঙ্গিত একটি কূটনৈতিক চ্যানেল খুলে দিতে পারে। প্রশাসন এই প্রস্তাব শর্তসাপেক্ষ কিনা বা এর মধ্যে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি বা আঞ্চলিক প্রক্সিদের সমর্থনের মতো অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত কিনা সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি।
আপাতত, প্রশ্ন হলো এই উদ্বোধন আলোচনার দিকে নিয়ে যায় নাকি একটি পাদটীকা হয়ে থাকে। কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি এবং কোনো দূত নিয়োগ করা হয়নি। যেমনটি বলা হয়, বলটি ইরানের কোর্টে—কিন্তু কোর্টটি এখনও তৈরি হয়নি।




