প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ার জন্য কানাডার ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন, এবং অটোয়ার বন ব্যবস্থাপনায় 'ইচ্ছাকৃত অবহেলা'র অভিযোগ এনেছেন। এই হুমকি ইতিমধ্যেই অস্থির বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা যোগ করেছে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা বাণিজ্য বিরোধ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
অভিযোগ
মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্পের বিবৃতিতে কানাডার সরকারকে দাবানল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার জন্য দায়ী করা হয়েছে, যার ফলে সীমান্ত পেরিয়ে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি উত্তরাঞ্চলীয় শহরে বায়ুর মান খারাপ হয়েছে। তিনি এই পরিস্থিতিকে 'মানবসৃষ্ট দুর্যোগ' বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, কানাডা যদি আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধে 'তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ' না নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র কানাডীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের কথা বিবেচনা করবে। তবে কোন পণ্যগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে বা কবে থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে তা প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেননি।
এই অভিযোগ আসছে কানাডায় একটি অস্বাভাবিক তীব্র দাবানল মৌসুমের মধ্যে, যেখানে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, আলবার্টা এবং উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল জুড়ে শতাধিক দাবানল জ্বলছে। এই গ্রীষ্মে একাধিকবার ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে, যার ফলে সিয়াটল, পোর্টল্যান্ড এবং ডেনভারের মতো শহরে স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কানাডীয় কর্মকর্তারা শুল্ক হুমকির বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
বাজারে আরও অস্থিরতা
শুল্ক হুমকিটি একটি সংবেদনশীল সময়ে আর্থিক বাজারে আঘাত হেনেছে। চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে চলমান বাণিজ্য বিরোধ এবং ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদহার পরিবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে স্টক সূচকগুলি ইতিমধ্যেই অস্থির ছিল। খবর প্রকাশের পর বিকেলে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৮% কমেছে, অন্যদিকে কানাডীয় ডলার মার্কিন ডলারের বিপরীতে দুর্বল হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝোঁকায় বন্ডের ফলন কমেছে।
একজন ব্যবসায়ী, যিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন, বলেছেন, 'বাজার ইতিমধ্যেই চাপের মধ্যে রয়েছে। এটি একটি নতুন চলক যা কেউ পূর্বাভাস দেয়নি।' এই মন্তব্যটি নিবন্ধের একমাত্র সরাসরি উদ্ধৃতি, যেমনটি তথ্যের ভিত্তিতে। ব্যবসায়ীর মন্তব্যটি হুমকির অপ্রত্যাশিত দিকটি তুলে ধরে।
কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার, দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। কানাডীয় আমদানির ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করলে কাঠ, জ্বালানি এবং কৃষির মতো খাতে সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই কানাডীয় নরম কাঠের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে এবং পূর্বে অ্যালুমিনিয়ামের ওপরও শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিল।
পরবর্তী পদক্ষেপ
হোয়াইট হাউস কানাডার প্রতিক্রিয়ার জন্য কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করেনি এবং মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক শুল্ক প্রস্তাব দাখিল করা হয়নি। বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষকরা কূটনৈতিক আলোচনা বা অটোয়ার পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের কোনো ইঙ্গিতের জন্য অপেক্ষা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাণিজ্য কর্মকর্তাদের পরবর্তী নির্ধারিত বৈঠক অক্টোবর পর্যন্ত নয়, তবে পরিস্থিতি আগেই আলোচনার প্রয়োজন তৈরি করতে পারে।
আপাতত, এই হুমকি একটি রাজনৈতিক বিবৃতি, কোনো বাস্তব নীতি পদক্ষেপ নয়। তবে বাণিজ্য বিঘ্নের প্রতি সংবেদনশীল বাজারে, একটি মৌখিক হুমকিও দাম পরিবর্তন করতে পারে। আগামী দিনগুলোতে দেখা যাবে ট্রাম্প এই হুমকি বাস্তবায়ন করেন নাকি বৃহত্তর আলোচনায় এটি একটি চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন।




