যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরব ২২ জুলাই একটি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন থেকে বলেছেন, সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে এই চুক্তি এগোবে না।
২২ জুলাইয়ের চুক্তি
ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি মার্কিন কোম্পানিগুলোকে শান্তিপূর্ণ জ্বালানি প্রকল্পের জন্য সৌদি আরবের সাথে পারমাণবিক প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়ার অনুমতি দেয়। এটি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। তবে চুক্তিতে নিজেই সৌদি আরবের ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনো শর্ত অন্তর্ভুক্ত নয়।
ট্রাম্পের শর্ত
স্বাক্ষরের পর মন্তব্যে ট্রাম্প তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ না দিলে পারমাণবিক সহযোগিতা এগোবে না। এই অ্যাকর্ডস মার্কিন মধ্যস্থতায় স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি, যার অধীনে ইতিমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো এবং সুদান ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেছে। রাষ্ট্রপতি দুটি বিষয়কে একসঙ্গে বেঁধে দিয়েছেন, কার্যকরভাবে পারমাণবিক চুক্তিটিকে মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতির জন্য একটি দরকষাকষির হাতিয়ার বানিয়েছেন।
আব্রাহাম অ্যাকর্ডস কী দাবি করে
অ্যাকর্ডস ইসরায়েল এবং আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পূর্ণ কূটনৈতিক স্বীকৃতি, বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার আহ্বান জানায়। সৌদি আরব এখনও পিছিয়ে রয়েছে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের অগ্রগতির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে। ট্রাম্পের শর্ত রিয়াদকে একটি কঠিন অবস্থানে ফেলেছে: ইসরায়েলের সাথে স্বাভাবিকীকরণ মেনে নিয়ে মার্কিন পারমাণবিক প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার লাভ, অথবা প্রত্যাখ্যান করে চুক্তিটি হারানো।
প্রতিক্রিয়া এবং পরবর্তী পদক্ষেপ
সৌদি কর্মকর্তারা ট্রাম্পের শর্তের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। রাজ্যটি দীর্ঘদিন ধরে তার জ্বালানি মিশ্রণে বৈচিত্র্য আনতে এবং তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি চেয়ে আসছে। কিন্তু স্বাভাবিকীকরণের দাবি একটি রাজনৈতিক স্তর যোগ করেছে যা চুক্তিটিকে বিলম্বিত বা ব্যাহত করতে পারে। চুক্তিটি এখন কংগ্রেসের পর্যালোচনার অপেক্ষায়, একটি প্রক্রিয়া যা সাধারণত ৯০ দিন সময় নেয়। সেই সময়ের মধ্যে সৌদি আরব স্বাভাবিকীকরণের দিকে অগ্রসর হবে কিনা তা একটি উন্মুক্ত প্রশ্ন রয়ে গেছে।




