১৬ জুন বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড এক সময় $৮০-এর নিচে নেমে যায় এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ৪% কমে $৭৭.৪৩-এ দাঁড়ায়। এই পতনের কারণ ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের খবর, যা হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে পারে—বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহনের জন্য অত্যাবশ্যক এই জলপথ।
মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারক
এই সপ্তাহের শুরুতে সমঝোতা স্মারকের খবর প্রকাশিত হলে ধারণা করা হয় যে তেহরান ও ওয়াশিংটন প্রণালী দিয়ে নৌচলাচল পুনরুদ্ধারের জন্য একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে এই জলপথকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে এবং সেখানে উত্তেজনা হ্রাস পেলে বৈশ্বিক সরবরাহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ব্রেন্ট ক্রুড একক সেশনে $৩-এর বেশি কমেছে এবং WTI-ও একই পথ অনুসরণ করেছে।
কোনো সরকারই বিস্তারিত নিশ্চিত করেনি, তবে বাজার ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেলের সরবরাহের সম্ভাবনা হিসাব করে নিচ্ছে। যদি প্রণালীটি মসৃণভাবে পুনরায় চালু হয়, তবে বিশ্লেষকরা আশা করছেন যে বর্তমানে নিষেধাজ্ঞার কারণে সীমিত ইরানি রপ্তানি বৃদ্ধি পেতে পারে, যা দামের ওপর আরও নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করবে।
অবকাঠামো ক্ষতি পুনরুদ্ধারকে জটিল করে তুলেছে
তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি আশাব্যঞ্জক নয়। প্রধান তেল-উৎপাদনকারী অঞ্চলে গুরুতর অবকাঠামো ক্ষতি উৎপাদন পুনরায় চালু করার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে ক্ষতির মাত্রা উল্লেখ না করা হলেও এটা স্পষ্ট যে ইরানি উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত করতে শুধু কূটনৈতিক চুক্তিই যথেষ্ট নয়। পাইপলাইন, বন্দর ও প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র মেরামতের কাজ কয়েক মাস সময় নিতে পারে, যার অর্থ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়িত হলেও বাজারে প্রকৃত তেল পৌঁছাতে দেরি হতে পারে।
বর্তমানে বাজার চাহিদার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সম্প্রতি সুদের হার বৃদ্ধি করেছে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশাকে দুর্বল করে দিয়েছে এবং তেলের চাহিদার ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত করেছে। ব্রেন্ট $৮০-এর কাছাকাছি এবং WTI $৭৮-এর নিচে থাকায় প্রশ্ন উঠেছে যে দাম কতটা কমতে পারে, যতক্ষণ না উৎপাদকরা উৎপাদন কমানো শুরু করে বা সমঝোতা স্মারক ব্যর্থ হয়।
ব্যবসায়ীরা এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের কাছ থেকে সরকারি বিবৃতির অপেক্ষায় রয়েছেন। যদি চুক্তি ব্যর্থ হয়, তাহলে দ্রুত উল্টো পথে তেল আবার $৮৫-এর উপরে উঠতে পারে। কিন্তু যদি প্রণালী পুনরায় চালু হয় এবং ইরানি রপ্তানি শুরু হয়, তাহলে দুই মাসের সর্বনিম্ন স্তরই শেষ নাও হতে পারে।




