সুইজারল্যান্ড তার সবচেয়ে পরিচিত মুখগুলোর একজন ছাড়াই বিশ্বকাপে নামছে। জেরডান শাকিরি, সেই সৃজনশীল মিডফিল্ডার যিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের ভিত ছিলেন, মাঠে থাকবেন না। তার অনুপস্থিতি দলের আক্রমণ এবং ড্রেসিং রুম—উভয় ক্ষেত্রেই মৌলিক পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করছে।
শাকিরি কী এনেছিলেন
শাকিরির কারিগরি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সুইজারল্যান্ডের খেলার পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তিনি একটি পাস বা হঠাৎ দৌড় দিয়ে শক্ত প্রতিরোধ ভাঙতে পারতেন। তার সেট-পিস ডেলিভারি দলের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য গোলের হুমকি তৈরি করত। সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, মাঠে তার উপস্থিতি প্রায়শই অতিরিক্ত ডিফেন্ডারদের আকর্ষণ করত, সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করত। সেই প্রভাব ছাড়া, কোচিং স্টাফকে নতুন উপায়ে সুযোগ তৈরি করতে হবে।
শাকিরি উচ্চচাপের মুহূর্তে একটি স্থিরকারী প্রভাব হিসেবেও কাজ করতেন। তার ১০০-এর বেশি আন্তর্জাতিক ক্যাপ এবং বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা তাকে উত্তেজিত আক্রমণ শান্ত করতে বা কামব্যাকে অনুপ্রাণিত করতে সাহায্য করত। সেই আবেগীয় নোঙ্গরও চলে গেছে।
সামনে কৌশলগত সমন্বয়
সুইজারল্যান্ড ক্ষতিপূরণ দিতে আরও নমনীয় ফর্মেশন গ্রহণ করতে পারে। যে ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে শাকিরি প্রায়শই কেন্দ্রীয় স্রষ্টা হিসেবে থাকতেন, তার পরিবর্তে দল দুটি স্ট্রাইকার ব্যবহার করতে পারে বা ওভারল্যাপিং ফুলব্যাকের ওপর বেশি নির্ভর করতে পারে। মিডফিল্ডকে আরও সৃজনশীল দায়িত্ব নিতে হবে। এর অর্থ সম্ভবত তরুণ খেলোয়াড়রা—যারা আন্তর্জাতিক স্তরে অপরীক্ষিত—শাকিরির আগের ভূমিকায় পা রাখতে বাধ্য হবেন।
কোচিং স্টাফকে সেট-পিস রুটিনও পুনর্বিবেচনা করতে হবে। শাকিরি ছিলেন প্রথম পছন্দের টেকার। এখন দলকে ডেড-বল পরিস্থিতির জন্য একটি নতুন প্রধান বিকল্প চিহ্নিত করতে হবে। এই বিবরণগুলোই টানটান ম্যাচের ফল নির্ধারণ করতে পারে।
নেতৃত্বের শূন্যতা
শাকিরি শুধু একজন খেলোয়াড় ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অভিজ্ঞ কণ্ঠ। তার চলে যাওয়ায় দলের নেতৃত্ব কাঠামো কম নিশ্চিত। অন্যান্য সিনিয়র ব্যক্তিত্বদের তাদের প্রভাব বাড়াতে হবে। অধিনায়কের দায়িত্ব আরও বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। নতুন নেতারা উঠে আসতে পারেন, কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় সময় লাগে—যে সময় সুইজারল্যান্ডের টুর্নামেন্ট শুরুর আগে নাও থাকতে পারে।
দলের গতিশীলতা ইতিমধ্যেই পরিবর্তিত হচ্ছে। যে খেলোয়াড়রা একসময় বল নিয়ে শাকিরির কাছে দায়িত্ব ছেড়ে দিতেন, তাদের এখন নিজেদের ওপর বিশ্বাস করতে হবে। এটি বৃদ্ধির সুযোগ হতে পারে, কিন্তু অনিশ্চয়তার উৎসও হতে পারে।
সুইজারল্যান্ডের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচই হবে আসল পরীক্ষা। তার আগ পর্যন্ত প্রীতি ম্যাচ ও প্রশিক্ষণ শিবিরে দেখা যাবে কে এগিয়ে আসে। উত্তরটি সম্ভবত কৌশলগত ডায়াগ্রাম থেকে আসবে না—এটি মাঠেই আসবে।




